স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের গুধিকাটা এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হলে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান মাহাবু এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম নুরুল আবছার নিলয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড় কাটার পরিমাণ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আশপাশের বসতবাড়ির অবস্থান সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপস্থিত এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন কর্মকর্তারা।
অভিযানে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ বন বিভাগের টৈটং বিটের কর্মকর্তারা এবং পেকুয়া থানা পুলিশ সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গুধিকাটা এলাকায় একটি বড় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আবু তাহের, শাহাদাত, বাচ্চু ও ইসমাঈল নামে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় মঞ্জুর নামের এক ইউপি সদস্য পাহাড়টি বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে মাটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোথাও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা না হয়, সে লক্ষ্যে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ ধ্বংসের এ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে।
